জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা

September 19, 2022

জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীজনদের সাথে একত্রে সমন্বীতভাবে এবং জরুরী ভিত্তিতে জলবায়ু কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। আজ ঢাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং সিইজিআইএস কনসোর্টিয়াম এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈধকরণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউএনডিপি’র 'বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) প্রণয়ন ও অগ্রগতি বিষয়ক' প্রকল্পের উদ্যোগে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সহায়তায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক আলোচনা ও কর্মশালার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আজকের কর্মশালায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাকে সবচেয়ে মূল্যবান পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে যা দেশের অভিযোজন সক্ষমতা, কার্যক্রম এবং অন্তর্ভূক্তিকরণের মত বিষয়সমূহকে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বীতভাবে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবগুলির ঝুঁকিসমূহ হ্রাস করতে বিশেষ উন্নয়ন কৌশল তৈরী, অভিযোজন সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন ও বিদ্যমান নীতি ও কর্মসূচিগুলোকে সহনীয় করা । জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) অনুযায়ী, ১২৯টি উন্নয়নশীল দেশ তাদের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

 

কর্মশালার প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব মোঃ শাহাব উদ্দিন, এম.পি. বলেন, “সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগের মতামতের উপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে”। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় অন্য সব মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করবে বলেও জানান মন্ত্রী।

কর্মশালার বিশেষ অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী জনাব হাবিবুন নাহার এম.পি বলেন, “NAP তার ৬টি লক্ষ্যের মাধমে CCA অগ্রাধিকার দিয়ে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে একীভূত করার মাধ্যমে জাতীয় পরিকল্পনার সাথে অভিযোজনকে একীভূত করতে সচেষ্ট হবে।আমি ধন্যবাদ জানাই উন্নয়ন সহযোগী পার্টনার UNDP ও Green Climate Fund কে যাদের সহযোগিতায় এই প্রকল্প প্রণীত হচ্ছে। আমি প্রত্যাশা করি যে আমরা একটি বাস্তবমুখী জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা হাতে পাবো যা আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রগণ্য ভুমিকা পালন করবে ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশে পরিণত হতে সহায়তা করবে। একই সাথে বিশ্বের দরবারে অভিযোজনে বাংলাদেশকে অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।"

কর্মশালায় ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “ NAP-এর চূড়ান্তকরণ একটি  উপযুক্ত সময়ে করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি, যেহেতু এই নভেম্বরে COP 27 অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কৌশলগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জড়ো হবে। তিনি আরও বলেন, “ইউএনডিপি একটি জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য এজেন্ডা 2030 অর্জন করতে  NAP বাস্তবায়নের মাধ্যমে  বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব ড. ফারহিনা আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব কবির বিন আনোয়ার এবং, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জনাব শরিফা খান বক্তব্য রাখেন। 

                                                               ###  ###  ###

For more information and media interviews, contact:

Md Abdul Quayyum, Head of Communications UNDP: md.quayyum@undp.org, 8801715025551