১০ হাজারের বেশি নারীকে টেকসই জীবিকা গড়তে সহায়তা

July 29, 2026

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও সরকারের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১২টি জেলার ১০ হাজারের বেশি অতিদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নারীকে টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা আয়, দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ পেয়ে আরও স্থিতিশীল জীবনের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

২৯ জুলাই ২০২৬ ঢাকার সিআইআরডিএপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউএনডিপি যৌথভাবে একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জীবিকা উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল্যায়নের ফলাফল তুলে ধরা হয়।


স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নে এবং ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগে সুইডেন সরকার ও ম্যারিকো সহযোগিতা করেছে। এর আওতায় ২৮৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৩২টি উপজেলায় ১০ হাজার ১৮৮টি অতিদরিদ্র নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে রয়েছেন বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন না এমন এবং এককভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করা নারীরা। এছাড়া যেসব নারীর স্বামীরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আয় করতে পারেন না, তাঁরাও এই উদ্যোগের আওতাভুক্ত।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: শহীদুল হাসান বলেন, সরকার নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সেবা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার সুযোগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


তিনি বলেন, দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।


স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, অতিদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য ভবিষ্যতের কর্মসূচি আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি বলেন, “এই মূল্যায়নের ফলাফল আমাদের বুঝতে সহায়তা করবে কোন উদ্যোগগুলো কার্যকর হয়েছে, কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং কীভাবে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় উন্নয়ন এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়।”


ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের পোর্টফোলিও অ্যাডভাইজার তাসমিয়া তাবাসসুম রহমান মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করেন।


কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভবিষ্যতের উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে এই মূল্যায়নের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।