বাংলাদেশে অধিকার সুরক্ষা ও এসডিজি ১৬ এগিয়ে নিতে তরুণ মানবাধিকার ফেলোদের অঙ্গীকার
July 26, 2026
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০ জন তরুণ মানবাধিকার ফেলো স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। তাঁরা শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ (SDG 16) এগিয়ে নিতেও ভূমিকা রাখবেন।
সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) পরিচালিত এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা নিরাপদভাবে জানানোর বিষয়ে ধারণা দেওয়া এবং নাগরিক উদ্যোগে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় তাঁরা ২৪১টি ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করেন এবং দেশের প্রতিটি জেলার ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের কাছে পৌঁছান।
২৫ জুলাই ২০২৬ গাজীপুরে আয়োজিত স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ফেলো, প্রশিক্ষক এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে তাঁরা কর্মসূচির অর্জনগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, নিজ নিজ এলাকার অভিজ্ঞতা ও গল্প তুলে ধরেন এবং তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত মানবাধিকার শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে দেশজুড়ে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন তুলে ধরা হয়, সাবেক ফেলোরা তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, সনদ বিতরণ করা হয় এবং ফেলোশিপ কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকার বিষয়ে মৌলিক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত ধারাবাহিক ওরিয়েন্টেশন সেশনের মাধ্যমে এই ফেলোশিপ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। এসব সেশনে ২৮৭ জন তরুণ অংশ নেন। পরবর্তীতে ১৫১ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৪০ জন ফেলো নির্বাচন করা হয়। তাঁরা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (Training of Trainers) কর্মসূচির মাধ্যমে নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বাংলাদেশজুড়ে ২৪১টি অনলাইন ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করেন। এসব সেশনের মাধ্যমে তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকার ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের কাছে মানবাধিকার বিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার ড্রাগান পপোভিচ বলেন, “এই ফেলোরা দেখিয়েছেন, তরুণরা শুধু মানবাধিকার শিক্ষার সুবিধাভোগী নন; তাঁরা নিজেরাও মানবাধিকার বিষয়ে অন্যদের শেখাতে পারেন, অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন এবং নিজেদের এলাকার মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের কাজ দেখিয়ে দেয়, নেতৃত্ব ও স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে জ্ঞান যুক্ত হলে তা সমাজে মানবাধিকারের চর্চা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন ফেলো বলেন, “এই ফেলোশিপ আমাদের জ্ঞানের পাশাপাশি দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব দক্ষতা। এর মাধ্যমে আমরা মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলতে, নিজেদের এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে এবং কেউ যখন অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন, তখন কোথায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে—তা অন্যদের জানাতে পারছি।”
এই উদ্যোগটি মানবাধিকার রক্ষাকারীদের সহায়তা এবং তরুণ অধিকারসচেতন কর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে ইউএনডিপির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় প্রতিষ্ঠান, নীতি ও সেবা শক্তিশালীকরণ (Strengthening Institutions, Policies and Services - SIPS) প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যানালিস্ট সুসান সুহা।