Youth innovators put Bangladesh on the EV map with City Boy, a locally built electric car for urban mobility
তরুণদের তৈরি ‘সিটি বয়’: পরিচ্ছন্ন যাতায়াত ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত
August 19, 2025
ঢাকার সরু অলিগলি ধরে ছুটে চলা বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘সিটি বয়’ নীরবে বদলে দিচ্ছে প্রতিদিনের শহুরে যাতায়াত ব্যবস্থার চিত্র। ছোট বাক্সের মতো দেখতে এই গাড়িটি বানিয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান পালকি মোটরস। ঢাকা শহরের প্রাণ সচল রাখে যে রাইড শেয়ারিং এর চালক বা ডেলিভারি ম্যান কিংবা পাড়ার রাস্তায় যাত্রীবাহী যানের চালকেরা, ‘সিটি বয়’ তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্যই। কম খরচে, কোনো রকম ধোঁয়াহীন এই গাড়িটি টেকসই লক্ষ্যমাত্রা ৭: সাশ্রয়ী ও পরিষ্কার জ্বালানি অর্জনের পথে এক বাস্তবসম্মত, দেশীয় সমাধান হিসেবে কাজ করছে।
‘সিটি বয়’ এর আইডিয়াটা সহজ। এতে এমন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা কম খরচে, কম রক্ষণাবেক্ষণে চালানো যায় এবং প্রয়োজনে দ্রুত এতে ব্যাটারি বদল করে আবার ব্যবহার করা যায়। সিটি বয় এর কমপ্যাক্ট ব্যাটারি চার্জ হতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। এতে আছে দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তনের সুবিধা। তাই চালানোর সময় ড্রাইভার শুধু সার্ভিস সেন্টারে আসবেন, ব্যাটারি বদলাবেন, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাস্তায় ফিরে যাবেন। চার্জের জন্য লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা কিংবা কত সময় চার্জ থাকবে, সে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। পালকি তাদের এই গাড়িটিকে সৌরচালিত ব্যাটারি পরিবর্তন স্টেশন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করছে, যেন গাড়িগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আরও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে নেওয়া সম্ভব হয়। যেসব চালকেরা এতদিন জ্বালানির উচ্চমূল্য আর বারবার মেরামতের ঝামেলায় ভুগেছেন, তারা বিদ্যুৎচালিত এই গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ বাড়াতে পারেন এবং নিয়মিত গাড়ি নষ্ট হওয়ার ঝামেলা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।
যানজটপূর্ণ ঢাকার রাস্তার থেমে থেমে চলা ছন্দের সাথে গাড়িটি বেশ মানিয়ে যায়। ছোট দূরত্ব, বারবার থামা, সরু রাস্তা—সবখানেই স্বাচ্ছন্দ্যে চলে। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সিটি বয় একবার চার্জে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। যেহেতু গাড়িটি পুরোপুরি এদেশেই তৈরি, তাই এর যন্ত্রাংশ ও মেরামত সেবাও পাওয়া যায় সহজেই, যা তৈরি করছে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা।
এর স্বীকৃতিও এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পালকি মোটরস জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি পুরস্কার (এনার্জি) জিতেছে। আর এতে তাদের গাড়ি উৎপাদন আর ব্যাটারি পরিবর্তনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও এসেছে গতি। এত কিছুর পরও তাদের মূল গল্পটি বুঝতে অসুবিধা হয় না কখনো। যার সারমর্ম তো এটাই: স্থানীয় একটি সমস্যা সমাধানে তরুণ প্রকৌশলীরা উদ্ভাবন করলো এমন একটা সমাধান, যেটি তৈরি, মেরামত আর ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করতে পারে তারা নিজেরাই।
পালকি মোটরস এর প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা আল মমিন বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তি পুরো সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে।’