ইকরামুল হাসান শাকিল: সাগর থেকে শিখর—প্লাস্টিক দূষণ রোধের অভিযাত্রা

August 26, 2025
A man with long dark hair is illustrated against a blue background with a fish graphic.
©UNDP Bangladesh

২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে পা রাখার মধ্য দিয়ে ইকরামুল হাসান শাকিল কেবল এক অভিযাত্রার সূচনাই করেননি, শুরু করেছিলেন একটি আন্দোলনের। নিজের উদ্দেশ্যে পূরণের গুরুভার ও দৃঢ় সংকল্পে পূর্ণ এক ব্যাকপ্যাক নিয়ে ৩১ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী তার যাত্রা শুরু করেন এক জোরালো বার্তা নিয়ে: সাগর রক্ষা করো, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করো।

৮৪ দিনের পথচলায় শাকিল অতিক্রম করেন ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ। ব্যস্ত নগরী, শান্ত গ্রাম, দুর্গম পাহাড়, এমনকি সাঁতরে পার হন প্রমত্তা যমুনা নদী। যাত্রাপথে তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, সচেতনতা ছড়িয়েছেন এবং অনুপ্রাণিত করেছেন সবাইকে, যেন তারা সমুদ্রের ওপর নিজেদের দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রভাব চিন্তা করেন।

তার গন্তব্য? পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ২০২৪ সালের ১৯ মে বাংলাদেশের সপ্তম পর্বতারোহী হিসেবে শাকিল পৌঁছে যান মাউন্ট এভারেস্টের শিখরে। তবে দেশের এভারেস্টজয়ী তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এ অর্জনকে উপকূল সংরক্ষণ অভিযানের সাথে যুক্ত করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার উচ্চতায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে তিনি জানান স্পষ্ট এক বার্তা: সমুদ্রে যা ঘটে, তার প্রভাব পড়ে সর্বত্র—এমনকি পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়াতেও।

শাকিলের সি টু সামিট অভিযান শুধু শারীরিক কোনো সাফল্য নয়, পাশাপাশি এটি পরিবেশ নিয়ে একটি শক্তিশালী বার্তাও। তার যাত্রা হাজারো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, সীমানা পেরিয়ে সচেতনতা ছড়িয়েছে এবং আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় ব্যক্তিগত পদক্ষেপ থেকেই।

শাকিল বলেন, ‘এই যাত্রা কেবল পাহাড়ের জন্য নয়, এটি সমুদ্র, পরিবেশ এবং আমাদের সবাইকে যুক্ত করে রাখা প্রত্যেকটি জিনিসকে রক্ষার আন্দোলন।’

এই স্মরণীয় অভিযানের মাধ্যমে শাকিল সমুদ্রকে দিয়েছেন এক নতুন কণ্ঠস্বর, যা ছড়িয়ে পড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্টের শিখর পর্যন্ত।