বিনিয়োগ সংস্কারে গতি আনতে ইউএনডিপি, বিডা ও আঙ্কটাডের উদ্যোগে ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট প্রকাশ
April 27, 2026
বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি সংস্কারে গতি আনতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর অংশীদারিত্বে আজ ঢাকায় আঙ্কটাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ (আইপিআর) ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই সংলাপে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে টেকসই ও মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণ অর্থনৈতিক রূপান্তর, বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সমন্বিত সংস্কার এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়রত্নে বলেন, “দৃঢ় বিনিয়োগ নীতিমালা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এমন দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক, যা শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে—বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে।”
বিডার অনুরোধে আঙ্কটাড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ২০২৬ সালের আইপিআর ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্টে ২০১৩ সালের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ-এর সুপারিশ বাস্তবায়নের এক দশকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিনিয়োগ সহজীকরণে বিডাকে প্রধান সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবার সম্প্রসারণসহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সমন্বিত বিনিয়োগ আইন প্রবর্তন এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আঙ্কটাড-এর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের পরিচালক ন্যান লি কলিন্স-এর একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। এরপর আঙ্কটাড-এর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের লিগ্যাল অফিসার কিয়োশি আদাচি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারারি-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় প্রতিবেদনটির সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যবহারিক পথনকশা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, র্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, বিডার সাবেক মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক, বিল্ড-এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগম এবং বাণিজ্য নীতি ও সহজীকরণ বিশেষজ্ঞ মো. হাফিজুর রহমান।
যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রাম (টিইপিপি)-এর আওতায় এই সংলাপটি আয়োজন করা হয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউএনডিপি অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদার করতে এবং তথ্য–প্রমাণভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে নীতিগত পরামর্শ ও সক্ষমতা উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে।