ডিজিটাল ক্যানভাসে নিজেদের স্বাক্ষর—জাতীয় এআই আর্ট-আ-থন ২০২৫
August 30, 2025
সৃষ্টিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (জেনারেটিভ এআই) সাহায্যে তৈরি কন্টেন্টে প্রায়শই পশ্চিমা বিশ্বকেন্দ্রিক কাহিনী ও প্রেক্ষাপট উঠে আসে। তবে বাংলাদেশের তরুণরা সেই ন্যারেটিভকে উলটে দিচ্ছে। ইউএনডিপি-এর পার্টনারশিপস্ ফর আ টলারেন্ট, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ (পিটিআইবি) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়েছে ন্যাশনাল এআই আর্ট-আ-থন ২০২৫। এই কর্মসূচিটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার করে নিজস্ব সংস্কৃতিভিত্তিক ডিজিটাল শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই কর্মসূচিতে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ইভেন্টের মাধ্যমে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে টেক্সট-টু-ইমেজ (T2I) এআই টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে ডিজিটাল নীতিনৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করা হয়েছে। এই আর্ট-আ-থন এ শিক্ষার্থীরা ৭০টিরও বেশি মানসম্পন্ন এআই আর্টওয়ার্ক তৈরি করেছে, যেখানে শহুরে ঐতিহ্য থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-এর মতো বিভিন্ন বিষয়বস্তু জায়গা করে নিয়েছে।
প্রতিটি শিল্পকর্মের সাথে এআইকে দেওয়া নির্দেশনার কাঠামো, টুলের সীমাবদ্ধতা এবং নির্মাতাদের ভিডিও মন্তব্যসহ বিস্তারিত ডকুমেন্টেশন সংযুক্ত করা হয়েছে। আর এগুলো মিলেই গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশকেন্দ্রিক একটি ডেটাসেট, যা বিদ্যমান এআই মডেলের পশ্চিমা পক্ষপাতকে চ্যালেঞ্জ করে। নির্বাচিত কাজগুলো উন্মুক্ত ডিজিটাল প্রদর্শনীর (artathon.bbebooks.com) মাধ্যমে সবার জন্য উন্মুুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সৃজনশীলতা পরিণত হয়েছে অ্যাডভোকেসি ও ডেটা সার্বভৌমত্বের শক্তিশালী হাতিয়ারে।
এই আর্ট-আ-থন বহুপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত করেছে। এতে টরেন্টো ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা একত্রিত হয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার ফলেই সংস্কৃতি সংবেদনশীল এআই নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এই আর্ট-আ-থনকে নৈতিক উদ্ভাবনের এক অনন্য মডেলে পরিণত করেছে।
ডিজিটাল ক্যানভাসে নিজেদের স্বাক্ষর রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা শুধু এআই শিখছে না, তারা এর ভবিষ্যৎও গড়ে তুলছে।
‘আমরা শুধু এআই ব্যবহারকারী নই, আমরা এর নির্মাতা ও সমালোচকও হয়ে উঠতে চাই, যাতে আমাদের গল্প আমরা নিজেরা আমাদের মতো করে বলতে পারি।’