পার্বত্য চট্টগ্রামে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে ঢাকায় জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

May 27, 2025
Panel of speakers seated on stage, discussing with a colorful backdrop and audience.

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoCHTA) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কর্তৃক পরিচালিত পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস (PRLC) প্রকল্পের আওতায় আজ ঢাকার সি এইচ টি (CHT) কমপ্লেক্সে “এসডিজি লোকালাইজেশন অ্যাক্সেলারেশন বা স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ” বিষয়ক একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই কর্মশালায় উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাগণ, উন্নয়ন অংশীদার, আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ সংগঠন এবং শিক্ষাবিদরা পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অঞ্চলভিত্তিক কৌশল এবং প্রতিকূলতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একত্রিত হন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল সংলাপ প্রচার, সমন্বয় জোরদার এবং পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য একটি রোডম্যাপ বা রুপরেখা উপস্থাপন করা।  

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব সুপ্রদীপ চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারাত্নে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ বিষয়ে উপস্থাপন করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়করণে মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মনিরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি সুপ্রদীপ চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “সকলের জন্য এক ধরণের নীতিমালা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে না। শিক্ষা থেকে শুরু করে জীবিকা নির্বাহ, পরিবেশ সুরক্ষা, এসব বিষয় মাথায় রেখে আমাদের সম্প্রদায়গুলির জন্য দরকার তাদের বাস্তবতা অনুযায়ী সমাধান। সর্বোপরি, আমাদের জনগোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারদের মধ্যে আস্থার প্রয়োজন।”

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট রেখে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় মালিকানার গুরুত্বের কথা বলেন। তিনি বলেন “বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭% সঠিক পথে আগাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জটিল অঞ্চলে, টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বয়, দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া কৌশল প্রয়োজন। সেই প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে স্থিতিশীল জীবিকা ব্যবস্থা গঠনের জন্য প্রকল্প "পার্টার্নশিপস ফর রিজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন সি এইচ টি" বাস্তবায়নে ইউএনডিপির সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা কাজ করে চলেছি।”

রাষ্ট্রদূত অজিত সিং আদিবাসী নেতৃত্বের উপর জোর দেন। "আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির তাদের নিজস্ব উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করে যে সমাধানগুলি প্রাসঙ্গিক, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থিতিশীল। কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি যে এই পদ্ধতিটি অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। ইউএনডিপি-র সাথে মিলে আমরা শিক্ষা এবং জলবায়ু বিষয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে।"

সোনালী দায়ারাত্নে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির কাঠামোগত রূপান্তর এবং পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। "পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন – সেটা হচ্ছে পদ্ধতিগত পরিবর্তন। এর অর্থ অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত তথ্য ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিকভাবে মানানসই সমাধানগুলিতে বিনিয়োগ করা। ইউএনডিপি এই পরিবর্তনকে সমর্থন করতে এবং সত্যিকার অর্থে কাউকে পিছনে না ফেলে যাতে উন্নয়ন হয় তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।"

কর্মশালার শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় একটি কারিগরি অধিবেশন ও মুক্ত আলোচনা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলি চিহ্নিত করেন; যার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ঘাটতি, তথ্যের সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা। পাশাপাশি পরিবেশভিত্তিক জীবিকা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো সুযোগ, সম্ভাবনাও উঠে আসে।

আদিবাসী জ্ঞান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে একটি পরিপূর্ণ সমাজ গঠন প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। সেশনটিতে পার্বত্য অঞ্চলের অনন্য প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ কাঠামোর একটি খসড়া প্রস্তুতের সুপারিশ গৃহীত হয়।