ইউএনডিপি , ইউএনএফপিএ এবং ইউএনওপিএস এর কার্যনির্বাহী বোর্ডের বাংলাদেশ সফর

Posted July 3, 2022

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউএনওপিএস-এর কার্যনির্বাহী বোর্ডের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যক্রম দেখতে এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করতে সপ্তাহব্যাপী, বাংলাদেশ সফর করেছে।

কার্যনির্বাহী বোর্ডের সভাপতি, রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী প্রতিনিধিইয়োকা ব্রান্ডেটের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গত ২৫ জুন ঢাকায় এসে পৌঁছান এবং জুলাই ঢাকা ত্যাগ করেন।

ইয়োকা ব্রান্ডেট ছাড়াও সদস্যদের মধ্যে সুইডেন, বুলগেরিয়া, গুয়াতেমালার স্থায়ী প্রতিনিধি যথাক্রমে লুইস আন্তোনিও লাম প্যাডিলা, আনা কারিন এনেস্ট্রোম এবং লাসেজারা স্টোয়িবা ছিলেন এছাড়াও আরো ছিলেন জাতিসংঘ কেনিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি নাম্বি  কিনইউনগু ; কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (কিউএফএফডি) এর আন্তর্জাতিক সহায়তা গবেষক মাশায়েল মুফতাহ। তাদের সাথে ইউএনডিপি নিউ ইয়র্কে কর্মরত কার্যনির্বাহী বোর্ডের ডেপুটি সেক্রেটারি দালিতা বালাসানিয়ান; ইউএনএফপিএর নির্বাহী বোর্ড শাখার প্রধান স্যামুয়েল কোরিজ  এবং ইউএনওপিএস নিউ ইয়র্ক বোর্ড এবং বৈদেশিক সম্পর্ক দপ্তরের প্রধান উলিয়াম অ্যাক্সেলসন উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের নেতৃত্বে জাতিসংঘের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিমের সাথে একটি বৈঠকের মাধ্যমে মিশনটি শুরু হয়

পরবর্তীতে তারা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প জাতিসংঘের অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সরকারের সাথে ইউএনডিপির বাস্তবায়িত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, ইউএনএফপিএর নারী বান্ধব স্থান/নারী নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি সেন্টার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনওপিএস কর্তৃক বাস্তবায়িত স্বাস্থ্য ক্লিনিক।

এছাড়াও প্রতিনিধি দলটি, শরণার্থী, ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন   টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি স্থানীয়করণের বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগ সম্পর্কে তারা একটি মতবিনিময় সভায় পরবর্তীতে অংশ নেন

তারা ইউএনডিপির পরিচালনায় কক্সবাজারের স্থানীয় সরকারের সাথে চলমান জেলা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কক্সবাজারে ইউএনএফপিএ এবং অন্যান্য সংস্থার স্বাস্থ্য জেন্ডার বিষয়ক যৌথ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন

"বাংলাদেশ সরকারের সাথে জাতিসংঘের একটি দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন  লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সুবিধার্থে এটিকে আরও জোরদার করতে চাই। আমরা এখানে দেখতে এসেছি, কিভাবে আমরা সেই লক্ষ্যে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারি, বিশেষ করে দেশটি যখন স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে উত্তরণে পথে আগাচ্ছে ," ইয়োকা ব্রান্ডেট তার বক্তব্যে কথা বলেন

পররাষ্ট্র সচিব, মাসুদ বিন মোমেন সফরকালে বলেন, "জাতিসংঘ বাংলাদেশের সাথে একটি শক্তিশালী উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, এবং এই মিশন আমাদেরকে সেসব ক্ষেত্র পর্যালোচনা মূল্যায়ন করার সুযোগ দিচ্ছে যেগুলোতে আলোকপাত করা প্রয়োজন।"

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী  গোয়েন লুইস বলেন, “এটি একটি সময়পোযোগী সফর। জাতিসংঘ ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করছে কার্যনির্বাহী বোর্ডের এই সফরটি আমাদেরকে আমাদের বর্তমান অবস্থানের উপর আলোকপাত করা ছাড়াও এবং ভবিষ্যতে আমাদের কর্ম পরিকল্পনা নির্ণয়ে সাহায্য করবে

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরে প্রতিনিধি দলটি ইউএনওপিএস-এর কার্যক্রম দেখতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) , স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বন , পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। তারা ইউএনডিপির অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই ) প্রোগ্রাম কীভাবে বাংলাদেশকে আরও ডিজিটাল করতে সহায়তা করছে সে সম্পর্কেও বিশদ আলোচনায় অংশ নেন এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনডিপি, ইউএনওপিএস এবং ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (এনআরপি) প্রকল্প পরিদর্শন করেন

পরবর্তীতে দলটি  ঢাকার  একটি বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন, যেখানে কিশোরী মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়ে ইউএনএফপিএ এবং ডব্লিউএফপির একটি যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সরকারের সাথে ইউএনডিপির নগর দারিদ্র্য হ্রাস কর্মসূচি চলমান রয়েছে