অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচ শুরু

April 13, 2026
Photograph of a long panel of speakers seated on stage, with a banner and flags behind.

২০২৫ সালে সফলভাবে প্রথম ব্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পর, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস (এজিও) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে আজ এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের উদ্বোধন করেছে। ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম ছিল বাংলাদেশে এই ধরণের প্রথম উদ্যোগ, যার লক্ষ্য আইন শিক্ষার তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে দূরত্ব বা ব্যবধান কমানো। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচিত আইন বিভাগের স্নাতকেরা ছয় মাসব্যাপী একটি ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান, যেখানে বিচার বিভাগে কাজের ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা, আইনি গবেষণা এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অধীনে সাংবিধানিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আইনের পুঁথিগত বিদ্যা আর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে ব্যবধান, তা কমানোর জন্য একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে এই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। এখন এটি ধীরে ধীরে আমাদের বিচার ব্যবস্থার একটি স্থায়ী অংশ হয়ে উঠছে।” একটি শক্তিশালী ও নৈতিক আইন পেশা গড়ে তুলতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। 

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “ইউএনডিপি ও আমাদের উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় আমরা এই প্রোগ্রামকে আরও বিস্তৃত করতে চাই, যাতে তরুণ আইনবিদরা দেশের বিচার ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারে।”

তিনি জানান, প্রথম ব্যাচের ইন্টার্নরা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলায় কাজ করেছেন এবং বিচার সংস্কার বিষয়ে আলোচনায় অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি তারা সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি আইন পেশায় সততা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো- বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন বিষয়ে দক্ষতা গড়ে তুলতে হলে তা শুরু থেকেই চর্চা করতে হবে। ভবিষ্যতের বিচারব্যবস্থা অনেকটাই নির্ভর করবে দক্ষ, নৈতিক ও স্বাধীন তরুণ পেশাজীবীদের ওপর।”

তিনি আরও জানান, প্রথম ব্যাচের ইন্টার্নরা সাংবিধানিক আইন, জেন্ডার সহিংসতা, মানবিক আইন, ডিজিটালাইজেশন ও গণমাধ্যম সম্পৃক্ততা বিষয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া তারা কক্সবাজারে একটি শিক্ষা সফরে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, “একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা যেকোনো গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা এমন তরুণ আইনজীবীদের গড়ে তুলছি, যারা আইনের শাসন ও জনআস্থা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।”

এই প্রোগ্রামে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টার্ন নির্বাচন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস ও ইউএনডিপির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হচ্ছে, যা এর ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে। প্রোগ্রাম শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে সহযোগিতা করবে।

এই উদ্যোগে সুইডেন উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করছে, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতিফলন।

প্রথম ব্যাচের সমাপ্তি এবং দ্বিতীয় ব্যাচের যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম দেশে তরুণ আইন পেশাজীবীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এমপি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি; অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলী; এবং ইউএনডিপির সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার।